Sunday, 09 23rd

Last updateTue, 20 Feb 2018 8am

মেয়র

জীবনালেখ্য-

 আবদুল কাদের

তারুণ্যের অসীম সাহস আর গৌরবময় ইতিহাসের সকল বাঁকে প্রাণ শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন জনাব আবদুল কাদের মির্জা । তিনিও মূলত: তারুণ্যের প্রতীক। নিজের সাহস, শ্রম, মেধা দিয়ে মানুষের সাথে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে করে তিনি একেবারে তৃণমূলের কর্মী থেকে হয়ে উঠেছেন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। জনপ্রিয়তা আর সাংগঠনিক দক্ষতা সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতিতে তার অবস্থান এখন অনিবার্য। মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিদান পেয়েছেন দুই দুইবার। হয়েছেন পৌর মেয়র। এখন তিনি পথ হাটছেন মানুষের জন্য আরো নতুন কিছু করার স্বপ্ন বুকে নিয়ে।

জন্ম ও পারিবারিক জীবন :

জনাব আদুল কাদের মির্জা ১৯৫৯-এর ১লা ডিসেম্বর, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মনেন। বাবা মোশারফ হোসেন সরকারি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে জনশিক্ষার স্বার্থে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কলকাতা ফেরত, ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ও বেকার হোস্টেল-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠি। মা ফজিলাতুন্নেছা সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের আশরফ-আতরপের ঘেরাটোপে এম.এল.এ-এর সন্তান; স্বশিক্ষিত, মমতাময়ী।

শিক্ষাজীবন :

মেয়র অবদুল কাদের মির্জার হাতেখড়ি হয় বসুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাঁর স্কুলজীবন কেটেছে বসুরহাট এ.এইচ.সি. সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে, এখান থেকে তিনি ১৯৭৫ সনে এস এস সি পাশ করেন। পরে তিনি সরকারী মুজিব কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীকালে একই কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম :

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর কিশোর অবদুল কাদের মির্জা ছিলেন অস্টম শ্রেণির ছাত্র। তবে কৈশোরের কৌতুহলে নয়, বেদনায় তাড়িত হয়েই বহুদিন বহু মুক্তিসেনাকে খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, তথ্য ইত্যাদি সরবরাহ করে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।

অবদুল কাদের মির্জা ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। ১৯৭৫ সালের পর তিনি অত্র অঞ্চলের ছাত্রলীগের হাল ধরেন। তারই ধারাবাহিকতাই ১৯৮১ সালে মুজিব কলেজের ভি পি নির্বাচিত হন।

১৯৮২ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতায় চেপে বসা সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র সমাজ স্পর্ধিত প্রতিবাদে তিনিও ছিলেন সোচ্চার। এজন্য তাঁকে একমাস জেলও খাটতে হয়েছে।

১৯৮৩ সালে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তিনি উপজেলা যুবলীগের হাল ধরেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সন্মানীত সদস্য।

জনগনের আগ্রহে ১৯৯৯ সালের বসুরহাট পৌরসভা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনেই তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা মামলা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

বসুরহাট পৌরসভায় ২০১১ সালে দ্বিতীয়বার ও ২০১৫ সালে তৃতীয়বার তিনি পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বসুরহাট পৌরসভার প্রতিনিধি হিসাবে অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে Urban Development Planning and Management উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেনতিনি দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথে পৌরসভার উন্নয়নে কিছু ব্যতীক্রমী পদক্ষেপ গ্রহন করেন তার মধ্যে

বসুরহাটপৌরবাসটার্মিনালনির্মান,

কোম্পানীগঞ্জকেন্দ্রীয়শহীদমিনারনির্মান,

বসুরহাটডায়াবেটিকহাসপাতালনির্মান,

৪। বসুরহাট বাজারের রাস্তা প্রশস্ত করন,

৫। বসুরহাট পৌরসভাকে ১ম শ্রেনীর পৌরসভায় রুপান্তর,

৬। পৌর মিনি শিশু পার্ক নির্মান,

৭। বসুরহাট বাজারে মার্কেট নির্মান উল্লেখযোগ্য।

একজন সংস্কৃতিমনষ্ক রাজনীতিক হিসাবে তিনি সুপরিচিত । তাঁরেই পৃষ্ঠপোষকতায় বসুরহাটে মহা সমারহে বৈশাখী উৎসব আর বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের আজীবন সদস্য।

তিনি অস্ট্রেলীয়া, নিউজিল্যন্ড, সিংগাপুর, মধ্যপ্রাচ্য সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। একজন ধর্মপরায়ণ ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবদুল কাদের মির্জা সুপরিচিত।

যোগাযোগ বিষয়ক তথ্য

  • Add:
  • Tel: